কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ এ ১১:৩৪ AM

জি. আই পণ্য রাজশাহী সিল্কের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ১১-০৪-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ১১-০৪-২০২৭

রাজশাহী সিল্কের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। তিনি প্রতিটি সেক্টরকে পর্যবেক্ষণ করছেন। রেশম শিল্প নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে একটি সভা হয়েছে। রাজশাহী সিল্কের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমরা বদ্ধ পরিকর। আজ সকাল ১০.৩০ ঘটিকায় বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সভাকক্ষে রাজশাহী সিল্কের উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মো: শরীফুল আলম, এমপি মহোদয় এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জি. আই পণ্য রাজশাহী সিল্ক। সিলেট যেমন চায়ের জন্য বিখ্যাত। চট্টগ্রাম আমাদের বানিজ্যিক রাজধানী। তেমনই রাজশাহী সিল্ক নগরী নামেও পরিচিত। সিল্কের সাথে রয়েছে আমাদের আবেগ। রেশম শিল্প একটি ঐতিহ্যবাহী এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। এটির আধুনকায়ন প্রয়োজন। এ শিল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত কারিগরি বিষয় জড়িত। ডিম থেকে সুতা উৎপাদন পর্যন্ত সকল কার্যক্রম আবহাওয়ার সাথে জড়িত। তাই এক্ষেত্রে প্রয়োজনে বাইরের প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে। প্রান্তিক চাষি, বসনীদের সুরক্ষা দেওয়াসহ সকল পর্যায়ে জড়িত ব্যক্তিদের এ শিল্পের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাদের দক্ষ জনগোষ্ঠীতে পরিণত করতে হবে। তাদেরকে একটি ছাতার নিচে নিয়ে আসতে হবে। আমাদেরকেও একটি গুটি থেকে ১৫০০ মিটার সুতা উৎপাদনে সক্ষম হতে হবে। সরকার গুরুত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য কাজ করছে। তবে একটি বিষয় উল্লেখ্য, সরকারের মূল উদ্দেশ্য কর্মসংস্থার সৃষ্টি। আমাদের দেশি বিদেশি উদ্যোক্তাদের নিয়ে রেশম শিল্পের সম্প্রসারণে কাজ করতে হবে। জনস্বার্থে কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। আমারা এ শিল্পকে নিয়ে ভালো ভাবে বাঁচতে চায়। তবে উত্তম গবেষণার প্রয়োজন। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বছর গবেষণার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা পূর্বে ছিল ৯ লক্ষ টাকা। নির্বাচনী ইশতেহার প্রতিপালনের লক্ষ্যে ফ্যামলি কার্ড, কৃষক কার্ড ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১১,৫০০ রেশম চাষি/ বসনীকে কার্ডের আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে। তারা প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। তবে রেশম শিল্পের উন্নয়নে সকলের পরামর্শ প্রয়োজন। সকলের ঐকান্তিক চেষ্টায় আশা করা যায় এ শিল্প আবার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। তিনি আরও বলেন সরকার এ শিল্পের উন্নয়নে সকলের ব্রিজ হিসেবে কাজ করবে।

মতবিনিময় সভায় সচিব মিজ্ বিলকিস জাহান রিমি মহোদয় প্রথমে রেশম সম্পর্কীত সকল পর্যায়ের স্টেক হোল্ডার উপস্থিত থাকায় তিনি বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকসহ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বলেন, রেশম শিল্পের হারনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য সরকার সকল ধরনের সহযোগিতা করবে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের এক গ্রাম একটি পণ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ অনুযায়ী রেশম চাষ একত্রে কমপাউন্ড ওয়েতে একটি ছাতার নিচে কাজ করতে হবে। ভর্তুকীর বিষয়েও চিন্তা করতে হবে। নীতিমালা নিয়ে কাজ করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক, রাজশাহী জনাব কাজী শহিদুল ইসলাম মহোদয় বলেন, প্রাচীনকাল থেকে রেশম শিল্প সুপরিচিত। এ শিল্পের উন্নয়নে ব্যক্তি পর্যায়ে উদ্যোক্তা যুক্ত করতে হবে। তিনি ভূমিহীন কৃষকদের রেশম চাষে সহযোগিতা করার কথা বলেন। তিনি বলেন রাজশাহী সিল্ক একটি ব্রান্ড। এ শিল্পের উন্নয়নে জেলা প্রশাসন, রাজশাহী সব ধরণের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে।

মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রাঈমুল হাছান মহোদয় রেশম শিল্প নিয়ে তাঁর আগ্রহের কথা বলেন। তিনি বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ শিল্পকে কাজে লাগানোর কথা বলেন । তিনি আশা প্রকাশ করেন এতে আইন সৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে। এজন্য তিনি সার্বিক সহযোগিতার কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম মনজুর হোসেন মহোদয় বলেন, রেশম শিল্পের উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই প্রযুক্তিগত দিক উন্নয়নসহ গবেষণার উন্নয়ন করতে হবে। এজন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এ শিল্পে যুক্ত করে বড় পরিসরে কাজ করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় সপুরা সিল্কের পরিচালক জনাব সাজ্জাদ আলী, মহোদয় বলেন, সুতার মান বৃদ্ধি করতে হবে। আমার একটি গুটি থেকে ১৫০০-১৮০০ মিটার সুতা উৎপাদন করতে হবে। প্রয়োজনে হাইব্রিড জাতের রেশম চাষ করতে হবে। রাস্তার ধারে গাছ লাগিয়ে বা প্রাচীন পদ্ধতিতে রেশম চাষ করলে এ শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এ শিল্পে যুক্ত করে বড় পরিসরে কাজ করতে হবে।

সভায় সিল্ক ম্যানুফ্যাকচারার এন্ড এক্সপোর্টার এসোসিয়েশন এর সাবেক সহসভাপতি জনাব মো: আব্দুল জলিল মহোদয় বলেন, এ শিল্পের উন্নয়ন করতে হলে রেশমের প্রতিটি সেক্টর যেমন: পলুপালন, গুটি উৎপাদন, সুতা তৈরি, কাপড় বুনন থেকে সকল পর্যায়ে কাজ করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ রেশম শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলেন। তারা বিশেষ করে রেশম শিল্পের উন্নয়নে বিদেশ থেকে রেশম সুতা আমদানি যে একটি বাধা তা তারা তুলে ধরেন। অন্যদিকে রেশম চাষিরা গুটির মূল্য বৃদ্ধি করার বিষয়টি সভায় উল্ল্যেখ করেন।

মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক জনাব মো: তৌফিক আল মাহমুদ।

মতবিনিময় সভায় জনাব মো: জহিরুল ইসলাম, যুগ্মসচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, জনাব মো: মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক (অর্থ ও পরিকল্পনা) ড. এম, এ মান্নান, পরিচালক (গবেষণা ও প্রশিক্ষণ) ও পরিচালক(উৎপাদন ও বিপণন) অ:দা: জনাব মোছা নাছিমা খাতুন, সৈয়দ শাহীন শওকত সাংগঠনিক সম্পাদক, রাজশাহী বিভাগ, ব্রাকের জেনারেল ম্যানেজার জনাব আব্দুল মান্নান, রেশম ব্যবসায়ী, পলুপালন কারী (বসনী), রেশম চাষি, রিলার, তাঁতী, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দসহ বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী ও সচিব মহোদয় রাজশাহী রেশম কারখানা পরিদর্শন এবং সকাল ৯.০০ ঘটিকায় রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট পরিদর্শন করেন।

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন